চিন্তাভাবনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
চিন্তাভাবনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০১০

শিরোনামহীন কিছু কথা

বুড়ো হয়ে যাচ্ছি দিনকে দিন। একেবারে প্রথম জন্মদিনে বাবা-মার সাথে তোলা ছবিটা এবারও বাসায় যেয়ে দেখে এসেছিলাম। নীল রংয়ের পাঞ্জাবী পড়া ছিলাম। মার কাছে শোনা, ওটাই নাকি ছিল আমার প্রথম পাঞ্জাবী। তারপর আরো কত সহস্র দিন চলে গেল। অনেক ঘটনা, অনেক হাসি, অনেক কান্না। মাঝে মাঝে ভাবি, জীবনের শেষটা কেমন হবে?

অতদূর চিন্তা আমার ক্ষুদ্র মাথায় আমি করতে পারিনা। আগামী এক বছর আমি কি করব, কিভাবে থাকবো সেটাই আমার কাছে ধোঁয়াশা। আর আমি দেখেছি যখন কোন চিন্তা-ভাবনা করি ভবিষ্যতের, হয় পুরো উলটো। তাই এখন আমি অনেক চালাক। সুখচিন্তা করা ছেড়ে দিয়েছি। তাও মাঝেমাঝে স্বপ্নরা হানা দেয় জীবনের উঠোনে। দরজা খুলে আমি বেরুতে না বেরুতেই তারা দৌড়ে পালায়।

এই জীবনটাতে অনেক কিছুই দেখেছি। কিভাবে মানুষ মানুষের কাছে আসে, তারাই আবার স্বার্থপরের মতন খুবই আশ্চর্যজনকভাবে সব কিছু ভুলেও যেতে পারে। দেখেছি, সবচেয়ে প্রিয়জনকে ভুলেও কিভাবে দিব্যি জীবন কাটিয়ে দেয়া যায়। দুঃখগুলো, কষ্টগুলো কীভাবে ভুলে থাকা যায় তাও জানি আমি। আবার দেখেছি একেবারেই অপ্রত্যাশিতভাবে জীবনের কোন এক বাঁকে নিজের উপস্থিতি টের পাওয়া। হয়ত বাঁকের একদিকে নিরবিচ্ছিন্ন সুখ আর ভালোবাসা; আর অন্যপ্রান্তে একাকীত্ব আর হতাশা। আর সবচেয়ে অসহায় লাগে একজন মানুষের তখনই বোধহয় যখন সে বোঝে তার জীবনের চাবি অন্য একজনের কাছে। এই পৃথিবীর আর কোনও জীব কি মানুষের মতন একই ভুল এরকম বারে বারে করে?

কোন গল্পের বই যখন হাতে নিতাম তখন বেশি উত্তেজনার বশে আগে শেষটা পড়ে নিতাম। অথবা হয়তবা খুব বিরক্তিকর লাগলেও। আমার জীবনটা এখন কিরকম বুঝতে পারছি না তবে পড়ে নিতে ইচ্ছে করছে আমার গল্পের শেষ অধ্যায়গুলো।

নিজেকে হয়ত প্রস্তুত করতে পারতাম অনিবার্য পরিণতির জন্য।

শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১০

আকাশ মেঘে ঢাকা, বরফ কণা ঝরে

১: আজকের সকাল
ক্লাসে ঢুকতেই ইঙ্গে (আমাদের শিক্ষিকা) ডাচে কি যেন বললেন। সবাই মুখ চাওয়াচাওয়ি করলাম। পরে উনিই তর্জমা করলেন ইংরেজীতে। আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল heel goed (খুব ভালো)। আজকে লাঞ্চের পর আর ক্লাস হবে না। অফিসে আর কে যায়? বাসায় এসে ফেসবুকে পোংটামি করা শেষে ভাবলাম একটু লিখি।


২: অনেকদিনের চাওয়া পূর্ণ হল
এনটিভির রিপোর্টারের গলা শুনতে পাচ্ছিলাম; স্পষ্ট নয়। কারণ আমি তখন টেলিফোনের ওপাশে। ২৭ তারিখ দিবাগত রাতের কথা বলছি। ততক্ষণে দু'জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। জন্মেছি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার ৭ বছর পরে। আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আর ৭৫ পরবর্তী সময়ে তাকেও বেশ রাজনৈতিক হয়রানির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাই বঙ্গবন্ধুকে জানার হাতখড়ি বাবার কাছেই। আমার মতে, উনি অনেক বড় মাপের নেতা কিন্তু ততটা সফল রাষ্ট্রনায়ক নন। কেন নন এই বিতর্কে যাওয়ার মত এলেম আমার নেই। সে যাই হোক, এরকম নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ বিচার বিভাগীয় তদন্তের মধ্য দিয়ে রায় পাওয়া এবং কার্যকর করা অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য একটা মাইলফলক হিসেবেই বিবেচিত হবে। সেই চিন্তা চেতনা সমুন্নত রেখেই অন্যান্য সকল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ও একই সাথে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়া জরুরী। তবেই প্রধানমন্ত্রির দেওয়া বক্তব্য সার্থকতা পাবে, দেশ সত্যিই এগিয়ে যাবে।

আমার ধারণা আমি কখনই ঘোরতর আওয়ামীপন্থী নই। বরং সমমনা কাউকে পেলে সমালোচনাই বেশি করি যদিও বিপরীত চিন্তার লোকদের কাছে আমার প্রকাশভঙ্গীটা হয় "বিচার মানি কিন্তু তালগাছ আমার" টাইপের। ক্ষমতাসীন সরকারে কাছে প্রত্যাশা একটাই তাঁরা যেন দেশের মানুষের কথা একটু হলেও ভাবেন। ১০ টাকা পেলে যেন পুরোটাই নিজেদের পকেটে না পুরে ৫ টাকা অন্তত দেশের স্বার্থে ব্যয় করেন। ওনারা কী শুনবেন আমাদের এই কথাটা? না কী আগেই কানে তুলো গুঁজে বসে আছেন?

৩: নিজের ছায়ার পিছে ঘুরে ঘুরে মরি মিছে
দেশের কথা, যাদেরকে পিছনে ফেলে রেখে এসেছি, তাঁদের কথা সবসময়ই মনে হয়। আমি সঙ্গপ্রিয় মানুষ এবং আমার ধারণা আমার সঙ্গও অনেকের কাছেই বেশ কাঙ্ক্ষিত ... :P। ইদানীং কাজের সময়টুকু বাদ দিয়ে পুরোটা সময়ই ঘরে বসে থাকতে হয় Slecht Weer এর জন্য। বুঝলেন না তো? বুঝিয়ে বলছি একটু পরই। কোন বন্ধুর সাথে কথা বললে বা ফেসবুকে ফাজলামি করলে পরে সময়টা খারাপ যায় না। কিন্তু যখন কাউকেই পাওয়া যায় না, তখন? আমার তো এমন কেউ নেই, যে আমার পথ পানে চেয়ে আছে। আবার এমন অনেকেও আছেন যারা না চাইতেও অন্য কেউ তাঁদের অপেক্ষায়। অবিচার নয় কী? না কী সেই চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যের পুরোনো টানাপোড়েন? মাঝেমাঝে নিজেই নিজেকে দেখার চেষ্টা করি ৫ বছরের পরের আমি কে। দেশের মাটিতে নাকি তুষারপাত এর মধ্যে বাইক চালিয়ে অফিসে যাচ্ছি? হাতটা কী তখনও বাড়ানো থাকবে বা হয়তো কেউ এসে ধরবেন খুব শক্ত করে, ছেড়ে যাবেন না কখনও অথবা আমি নিজেই হাতজোড়া প্যান্টের পকেটে গুঁজে রাখবো প্রত্যাখিত হতে ভয় ও কষ্ট দু'টোই পাই বলে। আগে থেকে জেনে গেলে জানি কোন মজা নেই, তারপরও আমার ধারণা মানুষ কখনই পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মাঝে নিজেকে খুঁজে পেতে চায় না। একটু দূরে হলেও বাতিঘর থাকতে হয় পথটা দেখানোর জন্য। যাদের আলো আছে হাত ধরাধরি করে তাঁদেরকে ইদানীং বড্ড হিংসা করি।

নিজেকে কবে অন্যের হিংসার পাত্র হিসেবে দেখবো তা মনে হয় উপরে বসে যিনি মজা দেখছেন তিনি নিজেও জানেন না। পুরো পৃথিবীটাই তো তাঁর পরীক্ষাগার আর আমরা সেই গিনিপিগ। কিন্তু গিনিপিগের ও তো ছোট্ট একটা হৃদয় থাকে। ওটা উনিও বুঝেন না আর ওনার সৃষ্টিরাও মাঝে মাঝে অবুঝ হন। তাহলে, উপায় কি? লাগে রাহো ... :D

৪: Ik leer Nederlands.
মানে হল ডাচ ভাষা শিখছি। একেবারেই বিগিনারদের জন্য। ৬ দিন ক্লাস, প্রতিদিন ৬ ঘন্টা করে। শব্দ মনে থাকলেও উচ্চারণ করাটা আমার জন্য রীতিমতন হিমালয় পাড়ি দেওয়ার মতন। এক 'উ' শব্দটাই আছে বেশ কয়েকটা। কোন কোনটা বাতাস ছেড়ে দিয়ে। আবার কোনটা বাতাস ধরে রেখে। আর ডাচ শব্দগুলোও আকারে ডাচ লোকজনের মতই। ইয়া বড় বড়। আরো আছে 'খকখক' সাউণ্ড। সব মিলিয়ে যা শিখছি তা কিছুক্ষণের মধ্যেই জগাখিচুরি পাকিয়ে যাচ্ছে। বাই দ্য ওয়ে, Slecht Weer মানে হল খারাপ আবহাওয়া। বিশেষ করে আজ সকাল হতেই বেশ তুষারপাত। বাইকে করে যাওয়ার সময় দু'বার প্রায় পড়ে গিয়েছিলাম। সামনে কোন মেয়ে থাকলে অবশ্যই পড়ে যেতাম। ছিল না বলে রক্ষা। এক বন্ধুকে বলছিলাম এ কথা। সাইকেল চালানো নিয়ে আরো অনেক মজার কথা আছে। সচিত্র প্রতিবেদন দেওয়া যাবে পরে কোন এক সময়। এখন বরফে ঢাকা কিছু ছবি দেখেন আমার ক্যাম্পাসের (আইফোনে তোলা বলে মান একটু খারাপ)। আকাশটাই শুধু ছিল মেঘে ঢাকা; তোমার দু'ফুটের মধ্যে যাওয়ার সৌভাগ্য এখনও হয়নি আর শাওন ধারাটাও ছিল না তখন।

 

 





৫: টুকরো কিছু
বাংলাদেশ আরও একবার হতাশ করলো। আমি ওদের সামর্থ অনুযায়ী ভেবেছিলাম অন্তত চতুর্থ দিনের শেষ সেশন পর্যন্ত হয়ত ব্যাট করতে পারবে। ভারতের সামনে লক্ষ্য হবে এক দেড়শ রান। না, আমি ভুল ভেবেছিলাম। যা ঘটল তা হল 'জহির'। এই ঝড়টার নামতো জহির ই দেয়া যেতে পারে, না কী?

ইদানীং নিজের রান্না আর একেবারেই মুখে দিতে পারছি না। মনে হয় একজন রান্নার লোক দরকার ... :P

এই মুহুর্তে ভীষণ কষ্ট আর রাগ লাগছে? কেন তা বলা যাবে না। গোপনীয়।

এবং ক্ষুধাও লেগেছে। সুতরাং, এই গানটা শুনতে থাকেন আর আমি বিদায় নেই ... ... ...

---------------------------------
Twee over half drie
29 Januari, 2010
Uit Enschede